Featured post
প্রাপ্তি
♥️ প্রাপ্তির খাতায় জমে থাকা কিছু মুহূর্ত ♥️ ★ তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, তৃতীয়, পুরন্দরপুর উচ্চ বিদ্যালয়, দাতা— শোভা মন্ডল, তাপাইপু...
প্রাপ্তি
কাঁঠাল কবি
সংগ্ৰাম
DEBRAJ SAHA TITLE SONG
রাত্রি ৩:১৫ : বসুভবনের অভিশাপ
টিউশন মাস্টার
SIR: নাগরিক যাচাই না কি রাজনৈতিক চাল!
এসআইআর – ভোটার তালিকা সংশোধন, না কি ভোটার সংশোধন!
পুজো আসছে
আমি বাংলা
চন্দ্ররূপে ঈশ্বর
স্বপ্নদ্রষ্টা এক অগ্নিপুরুষ
আমাদের সমাজে জন্ম আর আর্থিক অবস্থানকে আমরা ভবিষ্যতের একমাত্র নিয়ামক ভেবে নিই। কিন্তু কালাম স্যার বুঝিয়ে গেছেন—জন্মের স্থান নয়, মন ও স্বপ্নের গভীরতা নির্ধারণ করে জীবনের পরিধি। আমি বারবার ভাবি তিনি কী করে নিজের দারিদ্র্যকে পরিণত করল এক রাষ্ট্রের চেতনার প্রতীক হিসেবে? যখন দেখি তাঁর কাজকে শুধু অস্ত্রনীতির সাফল্য বলে অভিহিত করা হয়, তখন কষ্ট পাই। কালাম স্যার আমার কাছে একজন নির্মাতা, যিনি হাতিয়ার বানাতে জানতেন ঠিকই, কিন্তু তার চেয়েও ভালো জানতেন স্বপ্ন গড়ে তুলতে। ওঁনার কাছে 'উন্নয়ন' মানে ছিল আত্মনির্ভরতা, কিন্তু সেই আত্মনির্ভরতা যেন ছিল মানবিক মূল্যবোধে মোড়ানো। আজ যখন ধর্মের ভিত্তিতে মানুষ ভাগ হয়ে যায়, তখন কালাম স্যার যেন আমার কাছে এক জীবন্ত উত্তর—“মানুষ আগে, ধর্ম পরে।” আমি যখন বিভাজনের রাজনীতি দেখি, তখন মনে পড়ে, কালাম স্যার কোনো ধর্মের মুখপাত্র ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবধর্মের দূত। আজকের এই সময়ে, যখন আমরা প্রায়ই দেখতে পাই তরুণ প্রজন্ম আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে, ভেঙে পড়ছে চাকরি না পাওয়ার হতাশায়, অথবা সোশ্যাল মিডিয়ার কৃত্রিম প্রতিযোগিতায় নিজেদের হারিয়ে ফেলছে—তখন আব্দুল কালাম যেন দাঁড়িয়ে থাকেন এক নিঃশব্দ বাতিঘরের মতো। আমি মনে করি, কালামের জীবনদর্শন আমাদের শিখিয়েছে সফলতা শুধু পদ বা প্রাপ্তির নাম নয়, বরং এটা একটি মানসিক প্রস্তুতি, এক অন্তর্দৃষ্টি, যা বলে:- “তুমি পারো, যদি তুমি নিজেকে বিশ্বাস করো।” আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় দুর্যোগ হচ্ছে আমরা স্বপ্ন দেখিনা, বা স্বপ্ন দেখলেও নিজেকে তার উপযুক্ত ভাবিনা। কিন্তু কালাম বলতেন, "Dream is not that which you see while sleeping, it is something that does not let you sleep." আমার মতে, এই একটা বাক্যই আজকের শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠ্যসূচিতে প্রথম পাতায় থাকা উচিত। তিনি কখনো অর্থ-প্রাপ্তিকে জীবনের একমাত্র পরিমাপক ভাবেননি। তাই তো আজকের এই কর্পোরেট-প্ররোচিত, নম্বর-নির্ভর, চাকরিনির্ভর সমাজে দাঁড়িয়েও আমি তাঁর কথাই মনে করি। ভাবি, কালাম স্যার যেন আমাদের বলেন—"মানুষ হও, পদ নয়; মনুষ্যত্ব অর্জন করো, মোহ নয়।"
প্রনাম এবং শ্রদ্ধা জানাই "দ্য মিসাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া" আভুল পাকির জয়নুলাবেদিন আবদুল কালাম।
১ টাকার ডাক্তারটা আজ আর নেই
মহানায়ক
কলমে দেবরাজ সাহা
বড়ো পর্দায় নক্ষত্র যে, নাম তার উত্তম কুমার,
চোখের চাউনিতে ভালোবাসা, হাসিতে রোদ্দুর-ধার।
ছবির ফ্রেমে স্বপ্ন গাঁথা, সংলাপে কাব্য ঝরে,
বাংলা ছবির গানে গানে, হৃদয় আজও ভরে।
সুট-কোটে ছিল রাজকীয়, ধুতি-পাঞ্জাবিতেও মান,
ভাষায় ছিল শুদ্ধ উচ্চারণ, অভিনয়ে ছায়া প্রাণ।
সুচিত্রার পাশে নায়ক যেন, ছায়াসঙ্গী জীবনের,
"সবার উপরে" যিনি থাকেন, আজও তিনি হৃদয়ঘরের।
সুচিত্রার পাশে ধরা পড়ে প্রেম, যেন মেঘের পাশে চাঁদের হাসি,
উত্তম ছিলেন না শুধু প্রেমিক, ছিলেন বাংলা ছবির স্বপ্নবাঁশি।
প্রতিটি দৃশ্য, প্রতিটি শব্দ, হয়ে উঠত অনুভবের ধ্বনি,
তাঁর মুখে “ভালোবাসি” মানে, অশ্রুর মতো চিরজীবন্ত বাণী।
স্বপ্নের রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, সিনেমার মোহময় দ্বীপে,
প্রতিটি ফ্রেমে লিখে গেছেন, জীবনের আর্তি নিঃশব্দ নীড়ে।
নীরব চোখে নক্ষত্রহাসি, কথায় যেন কবিতা বাজে,
উত্তম নাম, স্বপ্নের মঞ্চে, যুগের মণি, আলোয় সাজে।
আজ তিনি নেই—তবু আছেন, আজও বুকে বাজে সেই গান,
"এই পথ যদি না শেষ হয়", চলেই যায় তাঁরই টানে প্রাণ।
নায়ক নয়, মহানায়ক—বাংলার হৃদয়ে রাজাধিরাজ,
উত্তম কুমার, চিরস্মরণীয়, এক বিস্ময়, এক শুভ সাজ।
আমি ছদ্মবেশী ভিখারি
আমি ছদ্মবেশী ভিখারি
সেদিন রাত্রে বর্ধমান ফিরছি। স্টেশনের এক ধারে হঠাৎ এক ব্যক্তি আমার নজরে আসে। দেখে মনে হলো ঐ ব্যক্তিটি উচ্চশিক্ষিত, তবে প্রথম থেকেই আমার ধারনাই সঠিক ছিল। ঐ ব্যক্তির কাছে যেতেই ওনার নাম আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তবে তিনি সেভাবে কিছুই ওনার নাম এবং তার পরিচয় আমাকে জানালেন না, তবে তিনি আলতো স্বরে যেটা বললেন, সেটা শুনেই আমার পুরো শরীর শিউরে উঠলো। তিনি বললেন- "আমি ছদ্মবেশী ভিখারি"।
যাইহোক নিজের রুমে এসে বসলাম। বাইরে থেকে কেউ একজন আমাকে ডাকছেন সেই ভেবে আমি দরজা খুলতে গেছি। দেখলাম এক ব্যক্তি আমার দিকে একটি কাগজ এগিয়ে দিয়ে বললেন "সাহায্য করবেন বাবু"। কাগজটা না পড়তেই আমি ওনাকে ১০ টাকার একটি নোট দিলাম। তারপর ওনার মুখের দিকে তাকাতেই লক্ষ করলাম উনি কেমন একটা কৌতুহল নিয়ে ঐ ১০ টাকার নোটটি দেখছেন। আমি হেসে বললাম - "হা! হা! হা! , আরে, ঐ নোটটি আসল ,জাল নোট তোমাকে দিই নি"। ব্যক্তিটি আমার দিকে তাকিয়ে বললো - "কে বলেছে আপনাকে নোটটি আসল নাকি নকল সেটা দেখছি। আমি দেখছি অন্যকিছু। "
ব্যক্তিটির কথায় কোন কর্ণপাত করিনি। কারন আমি ভেবেছিলাম লোকটি পাগল। রাত্রে ডিনার সেরে শুয়েছি, হঠাৎ আমার সেই ব্যাক্তির কথা মাথায় আসে যাকে আমি স্টেশনে দেখেছিলাম, সেই ছদ্মবেশী ভিখারী টা। কিছুতেই একটা জিনিস আমি মেলাতে পারছিনা, ভিখারী তাও আবার ছদ্মবেশী?
সকালে ঘুম থেকে উঠে খবরের কাগজ নিয়ে আমি বসে আছি। সঙ্গে এককাপ চা ও আছে। আচমকা আমার নজরে একটি হেডলাইন চোখে পড়লো। যেখানে লেখা -" এক পুরুষের গলাকাটা দেহ উদ্ধার, পুরো শরীর জুড়ে লেখা আমি ছদ্মবেশী ভিখারি "পুরো খবরটি পড়ার পর নিজের মনকে শান্ত করতে পারিনি। ছুট্টে স্টেশনে সেই ছদ্মবেশী ভিখারি টার কাছে আমি পৌঁছায়, কিন্তু আমি তাকে স্টেশন চত্বরে কোত্থাও খুঁজে পাইনি। স্টেশনের বাইরে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছি, এমনি সময় আমি দেখতে পাই সেই ছদ্মবেশী ভিখারি টাকে। তবে তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে আজ বেজায় খুশি। আমি সমস্ত কিছু উপেক্ষা না করেই তার কাছে যায়। তার সাথে আলাপচারিতার জন্য তাকে ১০ টাকার একটি নোট দিলাম,সে টাকাটা পেয়েই নোটটি আসল নাকি নকল যাচাই করে নিলো। অবাকও হলাম, কারন, গতরাত্রেই এক ব্যক্তি এমনটাই করেছিলো। ঐ ভিখারি টাকে আমি বললাম তুমি নিজেকে ছদ্মবেশী ভিখারি কেন বলছো? সে আমার দিকে তাকালো কিন্তু কোন জবাব দিলোনা। কিছুতেই একটা জিনিস আমি মেলাতে পারছিনা, খবরের কাগজের শিরোনাম আর এই ছদ্মবেশী ভিখারির আসল নাম।
পরের দিন সকালে আমি ইউনিভার্সিটি যাবার জন্য রাস্তায় টোটো ধরবার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। দূর থেকে দেখতে পাই সেই ছদ্মবেশী ভিখারি টাকে। এদিকে আমার মাথার মধ্যে হাজার ভাবনা আসছে যে এই ভিখারি টাই গতকাল খবরের কাগজে পড়া সেই ব্যক্তি কে খুন করেনি তো...।
যাইহোক,তার কাছে আমি পৌঁছায়, কিন্তূ আজ দেখছি সে মুখে কোন কথা বলছে না। রাস্তার লোকজন এর কাছে খবর পাই উনি নাকি বোবা। আমি আরো বেশি আশ্চর্য হয়ে পড়ি, কারন এই ব্যক্তি কে আমি গত দুদিন ধরে দেখছি আর সে আমার সাথে কথাও বলেছে , কিন্তূ আজ সে নাকি বোবা এটা আমি মেনে নিতে পারলাম না। আমি ঠিক করেছি আজ এই ব্যক্তি অর্থাৎ ছদ্মবেশী ভিখারিটার সাথেই সারাক্ষণ কাটাবো,তাও সবার আড়ালে। সারাটা সন্ধ্যে ঐ ভিখারি টা রাস্তার ধারেই ভিক্ষা করে কাটালো। রাত্রি গড়িয়ে আসে। বাজার প্রায় বন্ধের মুখেই। আমি আড়াল থেকে লক্ষ্য করলাম ঐ ভিখারি টা তার সমস্ত সরঞ্জাম নিয়ে এগিয়ে চলেছে। আমিও তার পিছনেই আছি,আর তাকে লক্ষ্য করছি। ঐ ভিখারি টা একটি অন্ধকার জলাশয়ের ধারে দাঁড়িয়ে আছে। আর হ্যাঁ ,এই জলাশয়ের বর্ননা আমি গতকাল খবরের কাগজে পড়েছিলাম যেখানে সেই গলাকাটা লাশের ঘটনা টি ছিল। আমি ভেবেছিলাম থানায় খবর দেবো। ফোনটা বাড় করতেই আমি দেখতে পেলাম ঐ ভিখারি টি চিৎকার করে হাসছে আর বলছে "আমি ছদ্মবেশী ভিখারি"। তবে এত ভয়ঙ্কর ঘটনা আমার সাথে এর আগে কখনো ঘটেনি।
আমি তার দিকে এগিয়ে গেলাম। তাকে কাঁধে হাত দিয়ে ডাকলাম। সে পিছন ঘুরে আমাকে দেখে আর বলে- " ও আপনি?"
আমি তাকে বললাম আপনি কথা বলতে পারেন? আর সকালে তো আমি শুনলাম যে আপনি নাকি কথা বলতে পারেন না। আপনি তো বোবা। ভিখারি টা হেসে উত্তর দিলো -"কে বলেছে আমি বোবা? আর আপনি এখানে কেন এসেছেন?" আমি তার কথার কোন উত্তর দিলাম না। শুধু জিজ্ঞাসা করলাম আপনার এরকম অবস্থা কেন?
ভিখারি টা বললো -"আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগে আমি প্রাইভেট সেক্টরে একটি চাকরি করতাম। পরিবারের অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। একদিন নিশুতি রাত্রে এই জলাশয়ের পাশ দিয়ে আমি বাড়ি ফিরছি। দেখলাম আমার স্ত্রী, মা ,ছোট বোন সকলেই এই জলাশয়ের ধারে পড়ে আছে। তাদের কে খুন করা হয়েছিলো। আমি প্রচন্ড ভেঙে পড়েছিলাম। কিছুতেই কারন অনুসন্ধান করতে পারিনি,যে কী কারনে তাদের কে খুন করা হয়েছে? আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করার জন্য গেলেও পুলিশ আমাকে থানা থেকে বের করে দেন। কিন্তু আমি একটা সূত্র পেয়েছিলাম। আমার পরিবারের মৃতদেহের এক পাশে একটা ১০ টাকার নোট পড়ে থাকতে দেখি। "
আমি অবাক হয়ে বললাম- "১০ টাকার নোট?"
ভিখারি টা বললো -" হ্যাঁ ১০ টাকার নোট। আমি কাজে বেরোনোর আগে আমার ছোট বোন কে চকলেট কেনার জন্য ১০টাকা দিয়েছিলাম । কিন্তু ঐ ১০ টাকা নোটের ওপরে রক্ত দিয়ে লেখা আমি ছদ্মবেশী ভিখারি"।
হঠাৎ আমি একটা জোরালো আওয়াজ শুনতে পেলাম। চোখ খুলতেই দেখি সকাল হয়ে গেছে। আর জোরালো আওয়াজ টা ছিল আমার অ্যালার্ম ঘড়ির। এতক্ষণ যা ছিলো সবটুকু এক দুঃস্বপ্ন।
তবে এই ছদ্মবেশী ভিখারি টার কথা কি আমি আর কখনো জানতে পারবো না? কি ছিল তার পরিচয়? আর কেন তার পুরো পরিবার কে হত্যা করা হয়েছিলো সে সবটুকু কি আমার কাছে অজানা থেকে যাবে?
যাইহোক তবে আমার মনে থাকবে স্টেশনে এবং জলাশয়ের ধারে তার বলা কথা -
" আমি ছদ্মবেশী ভিখারি..."।