Featured post

DEBRAJ SAHA TITLE SONG

A special song has been dedicated to Debraj Saha on the occasion of his 24th birth anniversary by MusicFul Hub. The entire vide...

Showing posts with label স্মৃতিচারনা. Show all posts
Showing posts with label স্মৃতিচারনা. Show all posts

চন্দ্ররূপে ঈশ্বর

 
যখন আকাশে আলোর অভাব হয়, মানুষ চেয়ে থাকে একটি প্রদীপের দিকে। আপনি ছিলেন সেই প্রদীপ যার শিখা নিভে যায়নি শতাব্দীর ঝড়েও। সমাজ যখন নির্বাক, আপনি উচ্চারণ করেছিলেন একা কন্ঠে।
যেখানে শ্রদ্ধা ছিল শুধুই অন্ধতা,কুসংস্কার - আপনি খুঁজেছিলেন প্রশ্নের ভিতর উত্তর। স্তব্ধ সময়ের বুকে দাঁড়িয়ে আপনি উচ্চারণ করেছিলেন:
"নারী এবং শিশুর অধিকার আছে শিক্ষা পাওয়ার।"

আপনার কলমে বর্ণপরিচয়ের শব্দ শুধু উচ্চারণ ছিল না তা ছিল এক যুগান্তকারী বিপ্লব, শিশুমনে যুক্তির প্রথম ছোঁয়া। যে কৌলীন্য কুঠুরিতে কাঁদতো নারী, আপনি সেখানে চন্দ্রের মতো আলো পাঠিয়েছেন। যে সমাজ দারিদ্রের কারনে কাঁদত, আপনি তাদের কান্না শুনেছিলেন উচ্চকণ্ঠে।

ঈশ্বরচন্দ্র—এই নামটি এক ব্যক্তির নয়, এ এক মহাকাব্য। যার প্রতিটি ছত্রে লেখা আছে মানবধর্মের মৌলিক শপথ। আজ, আপনার প্রয়াণবার্ষিকীতে জানাই শতকোটি প্রনাম। আজ আপনি নেই তবু আপনি আছেন প্রতিটি সাহসে, প্রতিটি বিদ্রোহে, প্রতিটি চোখে যার প্রতিবাদ জমে আছে আজও। 

যিনি ঈশ্বর হয়েও, ছিলেন শুধুই চন্দ্র—আলোকদাতা।

প্রণাম, দয়ার সাগর বিদ্যাসাগর। প্রয়ান বার্ষিকীতে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।


স্বপ্নদ্রষ্টা এক অগ্নিপুরুষ

 
আজ আমি এমন একটা মানুষকে নিয়ে লিখছি ,যাঁর আলোয় একটা গোটা জাতি পথ খুঁজে পেয়েছিল।‌ সেই আলোকবর্তিকাদের ভিড়ে এক নিঃশব্দ কিন্তু ধ্রুব জ্যোতিষ্কের মতো উদিত হয়েছিলেন ডঃ এ.পি.জে. আব্দুল কালাম। তাঁর জীবন ছিল এক সমুদ্র—যার তলদেশে যেমন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, রাষ্ট্রনীতি, তেমনি ছিল প্রজ্ঞা, কাব্য ও করুণা। তিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন, কিন্তু রাষ্ট্রের চেয়ে বড় ছিলেন মানুষ হিসেবে। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। আমি তাঁকে যতটুকু চিনেছি, জেনেছি এবং তাঁকে বুঝেছি ততই আমি অভিভূত হয়েছি। তাঁর প্রত্যেকটা বানী আমাকে অনুপ্রেরনা জুগিয়েছে। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে নিয়ে আমি দু-চার কথা না লিখে পারলাম না।

আমাদের সমাজে জন্ম আর আর্থিক অবস্থানকে আমরা ভবিষ্যতের একমাত্র নিয়ামক ভেবে নিই। কিন্তু কালাম স্যার বুঝিয়ে গেছেন—জন্মের স্থান নয়, মন ও স্বপ্নের গভীরতা নির্ধারণ করে জীবনের পরিধি। আমি বারবার ভাবি তিনি কী করে নিজের দারিদ্র্যকে পরিণত করল এক রাষ্ট্রের চেতনার প্রতীক হিসেবে? যখন দেখি তাঁর কাজকে শুধু অস্ত্রনীতির সাফল্য বলে অভিহিত করা হয়, তখন কষ্ট পাই। কালাম স্যার আমার কাছে একজন নির্মাতা, যিনি হাতিয়ার বানাতে জানতেন ঠিকই, কিন্তু তার চেয়েও ভালো জানতেন স্বপ্ন গড়ে তুলতে। ওঁনার কাছে 'উন্নয়ন' মানে ছিল আত্মনির্ভরতা, কিন্তু সেই আত্মনির্ভরতা যেন ছিল মানবিক মূল্যবোধে মোড়ানো। আজ যখন ধর্মের ভিত্তিতে মানুষ ভাগ হয়ে যায়, তখন কালাম স্যার যেন আমার কাছে এক জীবন্ত উত্তর—“মানুষ আগে, ধর্ম পরে।” আমি যখন বিভাজনের রাজনীতি দেখি, তখন মনে পড়ে, কালাম স্যার কোনো ধর্মের মুখপাত্র ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবধর্মের দূত। আজকের এই সময়ে, যখন আমরা প্রায়ই দেখতে পাই তরুণ প্রজন্ম আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে, ভেঙে পড়ছে চাকরি না পাওয়ার হতাশায়, অথবা সোশ্যাল মিডিয়ার কৃত্রিম প্রতিযোগিতায় নিজেদের হারিয়ে ফেলছে—তখন আব্দুল কালাম যেন দাঁড়িয়ে থাকেন এক নিঃশব্দ বাতিঘরের মতো। আমি মনে করি, কালামের জীবনদর্শন আমাদের শিখিয়েছে সফলতা শুধু পদ বা প্রাপ্তির নাম নয়, বরং এটা একটি মানসিক প্রস্তুতি, এক অন্তর্দৃষ্টি, যা বলে:- “তুমি পারো, যদি তুমি নিজেকে বিশ্বাস করো।” আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় দুর্যোগ হচ্ছে আমরা স্বপ্ন দেখিনা, বা স্বপ্ন দেখলেও নিজেকে তার উপযুক্ত ভাবিনা। কিন্তু কালাম বলতেন, "Dream is not that which you see while sleeping, it is something that does not let you sleep." আমার মতে, এই একটা বাক্যই আজকের শিক্ষা ব্যবস্থার পাঠ্যসূচিতে প্রথম পাতায় থাকা উচিত। তিনি কখনো অর্থ-প্রাপ্তিকে জীবনের একমাত্র পরিমাপক ভাবেননি। তাই তো আজকের এই কর্পোরেট-প্ররোচিত, নম্বর-নির্ভর, চাকরিনির্ভর সমাজে দাঁড়িয়েও আমি তাঁর কথাই মনে করি। ভাবি, কালাম স্যার যেন আমাদের বলেন—"মানুষ হও, পদ নয়; মনুষ্যত্ব অর্জন করো, মোহ নয়।"

প্রনাম এবং শ্রদ্ধা জানাই "দ্য মিসাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া" আভুল পাকির জয়নুলাবেদিন আবদুল কালাম।
ছবি :- সংগৃহিত 

১ টাকার ডাক্তারটা আজ আর নেই


১ টাকার ডাক্তারটা আজ আর নেই

তিনি কথা বলতেন খুব আস্তে। যেন শব্দ দিয়ে নয়, আশীর্বাদ দিয়ে কথা বলেন।তাঁর চোখে ছিল এক অপার ধৈর্য, যা শুধু সহানুভূতিতে তৈরি হয় না,তার পেছনে থাকে জীবনভর অনুশীলন। তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল একদিন,একটা সমাজসেবামূলক অনুষ্ঠানে। আমি গিয়েছিলাম আয়োজনের দায়ে, আর তিনি এসেছিলেন শুধু ভালোবাসার টানে। তাঁর সাদা পাঞ্জাবি, হাসিমাখা মুখ, আর সেই গলায় আলতো আশ্বাস এখনও মনে পড়ে, আর বুকের ভেতর হুহু করে ওঠে।
তাঁর কাছে গিয়ে আমি নাম জিজ্ঞেস করিনি। কারণ তাঁর চোখই বলে দিয়েছিল তিনি কে। মানুষকে সত্যিকারে ভালোবাসলে, কোনও পদবী, কোনও পরিচয় লাগে না। তিনি এমন একজন, যাঁর কাছে জীবন মানে ছিল দান নয়, দায়িত্ব। নিজের প্রাপ্যটুকু নিয়ে কখনও অভিযোগ করেননি, বরং অন্যের অপ্রাপ্তিকে নিজের করে নিয়েছিলেন। আজ যখন দেখি, চিকিৎসা মানে কোটির টাকার ব্যবসা, দরিদ্র রোগীর মুখ দেখলে বন্ধ হয়ে যায় ডাক্তারবাবুর চেম্বার, তখন খুব মনে পড়ে তাঁর কথা।যিনি একটা ছোট্ট ঘরে বসে শুধু ১ টাকায় মানুষের যন্ত্রণা লাঘব করতেন।না, এটা দয়া ছিল না। এটা ছিল বিশ্বাস যে চিকিৎসা একটা পেশা নয়, এটা এক মানবিক ব্রত।
আজ তিনি নেই।তবু কোথাও যেন আছেন। একটা দীর্ঘশ্বাসে, একটা রোগীর কপালে হাত রেখে বলা কথায়—“ভয় নেই, আমি আছি।” আমি জানি, তিনি ছিলেন না কোনো ঈশ্বর, তবু তাঁর উপস্থিতি ঈশ্বরেরই আশ্বাস দিত। 
এতক্ষণ যার কথা বললাম, যিনি আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। তিন বছর আগে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর নাম একবার উচ্চারণ করতেই বুক ধুকপুক করে ওঠে।
 তিনি—
ডঃ সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রয়ান দিবসে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা