১ টাকার ডাক্তারটা আজ আর নেই
তিনি কথা বলতেন খুব আস্তে। যেন শব্দ দিয়ে নয়, আশীর্বাদ দিয়ে কথা বলেন।তাঁর চোখে ছিল এক অপার ধৈর্য, যা শুধু সহানুভূতিতে তৈরি হয় না,তার পেছনে থাকে জীবনভর অনুশীলন। তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল একদিন,একটা সমাজসেবামূলক অনুষ্ঠানে। আমি গিয়েছিলাম আয়োজনের দায়ে, আর তিনি এসেছিলেন শুধু ভালোবাসার টানে। তাঁর সাদা পাঞ্জাবি, হাসিমাখা মুখ, আর সেই গলায় আলতো আশ্বাস এখনও মনে পড়ে, আর বুকের ভেতর হুহু করে ওঠে।
তাঁর কাছে গিয়ে আমি নাম জিজ্ঞেস করিনি। কারণ তাঁর চোখই বলে দিয়েছিল তিনি কে। মানুষকে সত্যিকারে ভালোবাসলে, কোনও পদবী, কোনও পরিচয় লাগে না। তিনি এমন একজন, যাঁর কাছে জীবন মানে ছিল দান নয়, দায়িত্ব। নিজের প্রাপ্যটুকু নিয়ে কখনও অভিযোগ করেননি, বরং অন্যের অপ্রাপ্তিকে নিজের করে নিয়েছিলেন। আজ যখন দেখি, চিকিৎসা মানে কোটির টাকার ব্যবসা, দরিদ্র রোগীর মুখ দেখলে বন্ধ হয়ে যায় ডাক্তারবাবুর চেম্বার, তখন খুব মনে পড়ে তাঁর কথা।যিনি একটা ছোট্ট ঘরে বসে শুধু ১ টাকায় মানুষের যন্ত্রণা লাঘব করতেন।না, এটা দয়া ছিল না। এটা ছিল বিশ্বাস যে চিকিৎসা একটা পেশা নয়, এটা এক মানবিক ব্রত।
আজ তিনি নেই।তবু কোথাও যেন আছেন। একটা দীর্ঘশ্বাসে, একটা রোগীর কপালে হাত রেখে বলা কথায়—“ভয় নেই, আমি আছি।” আমি জানি, তিনি ছিলেন না কোনো ঈশ্বর, তবু তাঁর উপস্থিতি ঈশ্বরেরই আশ্বাস দিত।
এতক্ষণ যার কথা বললাম, যিনি আজ আর আমাদের মধ্যে নেই। তিন বছর আগে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর নাম একবার উচ্চারণ করতেই বুক ধুকপুক করে ওঠে।
তিনি—
ডঃ সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রয়ান দিবসে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা
No comments:
Post a Comment