Featured post

বর্ষা -বিষাদ

নিবিড় মেঘের নীলিমাতে কার বিষাদের স্বাক্ষর,  বৃষ্টিধারা পড়ে যেন নীরবতারই অক্ষর।  সাঁঝের আলো ধূপের ধোঁয়ায় জড়ায় ক্লান্ত বেলা,  অভিমানের অ...

Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

বর্ষা -বিষাদ

নিবিড় মেঘের নীলিমাতে কার বিষাদের স্বাক্ষর, 
বৃষ্টিধারা পড়ে যেন নীরবতারই অক্ষর। 
সাঁঝের আলো ধূপের ধোঁয়ায় জড়ায় ক্লান্ত বেলা, 
অভিমানের অরণ্যে আজ শুধুই স্মৃতির খেলা। 
কদমডালে জলের নূপুর গোপন সুরে বাজে, 
 মনখারাপের ঋতু নেমে আসে বেলাশেষে।
ভেজা হাওয়া ছুঁয়ে যায় যে অনামিকা বন, 
সেখানেই তো জন্ম নেয় নির্বাক বিষণ্ন মন। 
দিগন্তজোড়া মেঘের আঁচল নত নদীর পারে, 
কে যেন আজ ব্যথার প্রদীপ জ্বেলে রাখে দ্বারে। 
জলরঙে আঁকা আকাশ জুড়ে অচেনা সব ছবি, 
অশ্রুর চেয়ে গভীর নাকি বর্ষাকালেরই কবি। 
তবু মনে হয়, প্রতিটি মেঘ একদিন যাবে সরে,
নতুন রোদই ফুটবে আবার এই জীবনের দ্বারে।
জলরেখারাই জানে শুধু নীরবতার ব্যাকরণ,
অব্যক্ত সব আর্তনাদের নামই জীবন।

লহ প্রণাম

শব্দের দীপ জ্বেলে এলে, জাগালে দেশের প্রাণ,
কলম হাতে লিখে গেলে স্বাধীনতার গান।to  
বন্দেমাতরম্ ধ্বনিতে আজও কাঁপে আকাশ-বাতাস,
তোমার বাণী জাগায় মনে অমর বিশ্বাস।
শব্দগুলো শুধুই শব্দ নয় , ছিল অগ্নির শিখা, 
তোমার হাতেই হয়েছিল স্বাধীনতার দীক্ষা। 
বাংলা ভাষার গৌরব তুমি, সাহিত্যের শিখর, 
যতদিন এই বাংলা বাঁচে, ততদিন তুমি অমর।
প্রজন্ম আসে, প্রজন্ম যায়, বদলায় কালের রথ, 
বঙ্কিম তুমি চিরঅক্ষয়, অনন্ত তোমার পথ। 
নবজাগরণের প্রথম আলো, বাংলার গর্ব তুমি, 
তোমার নামে আজও জাগে এই মাতৃভূমি। 
যুগ বদলায়, সময় বদলায়, বদলায় পৃথিবী,
বঙ্কিম তুমি চিরসবুজ, চিরনবীন কবি। 
আজও এই বাংলার প্রতিটি হৃদয়ে বাজে তোমার নাম,
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়— লহ প্রণাম। 

বাবা

যতবারই হোঁচট খাই, বাড়িয়ে দাও হাত, 
তোমার ছায়ায় ছোট্ট জীবন পায় নতুন প্রভাত। 
নিজের ইচ্ছে দূরে সরিয়ে গড়ো আমার পথ, 
তোমার ঘামে লেখা থাকে শতসহস্র শপথ। 
রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, করো জীবন জয়, 
তোমার ত্যাগের কাছে বাবা, পৃথিবী নত হয়। 
বাবা মানে, শক্ত হাত, নির্ভয়ের আশ্রয়, 
বাবা মানে, জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। 
তোমার নীরব ত্যাগের কাছে শব্দ হয় ক্ষীণ, 
বাবা তুমি আছো বলেই জীবন এত রঙিন। 
জীবন যত দূরে যাক, যতই বদলাক দিন, 
বাবার মতো আশ্রয় আর হয় না কোনোদিন।
আজকে শুধু বলি বাবা— থেকো সারাক্ষণ, 
তুমি আছো বলেই আমার সুন্দর এই জীবন। 



জামাইষষ্ঠী

জামাইষষ্ঠী এল বলে সাজল শ্বশুরবাড়ি, 
শাশুড়িমা ভোর থেকেই রাঁধেন নানান তরকারি।
নতুন ধুতি পরে জামাই এলেন হেসে ধীরে,
উলুধ্বনি আর শঙ্খ বাজে আনন্দভরা নীড়ে।
দই-চিঁড়ে আর মিষ্টি দিয়ে হলো শুভ বরণ,
আশীর্বাদের স্নেহ ছোঁয়ায় ভরে উঠল জামাইয়ের মন।
লুচি, পোলাও, ইলিশ, চিংড়ি, সাজল ভোজের থালা,
শাশুড়িমা বলেন হেসে, “খাও গো জামাই, বাবা!”
জামাই বলে, “আর যে পারি না, ভরল আমার পেটটা”,
শাশুড়ি কয়, “‌ বছরে তো একদিনই জামাইষষ্ঠীটা!”
শ্বশুরমশাই মুচকি হেসে বাড়িয়ে দিলেন পান,
জামাইবাবুর মুখের কোণে ফুটল সুখের গান।
আদর-যত্ন, হাসি-ঠাট্টায় কেটে গেল বেলাটা,
মনে মনে ভাবেন জামাই—“বাহ্! কী সুখের দিনটা!”
জামাই তখন মুচকি হেসে বললেন মনে মনে—
“জামাইষষ্ঠী বছরে একদিন, বাকি দিন তো গৃহকোণে!”
জামাইষষ্ঠী তাই যে ভাই, বড়ই মধুর দিন,
একদিনের রাজা সেজে জামাই, খুশি থাকে এইদিন। 
আদর-যত্ন, মজা-ঠাট্টা, সব উৎসবই বারবার 
বছরের এই একটি দিনে জামাইষষ্ঠী কিন্তু একবার।


শুধু তুই

তুই ছিলি হৃদয় জুড়ে, হারিয়ে গেলি কালের স্রোতে,
তবু তোর স্মৃতিগুলো, জেগে থাকে নীরব রাতে।
ফুল ঝরেছে, রাত পেরিয়েছে, শুকিয়েছে নদীর জল,
তবু কেন তোরই স্মৃতিতে, ভিজে ওঠে আঁখির তল।
তুই নেই তবু সন্ধ্যাবেলা জানালাটা খোলা রাখি,
ফিরবি না জেনেও কেন, পথের পানে চেয়ে থাকি।
তুই নেই বলে সন্ধ্যাগুলো আজও বড়ো নিরাশা,
ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে থেকেও, খুঁজি তোরই ভালোবাসা।
সময় কত দূর গড়ালো, বদলে গেল চারিপাশ,
তবু কেন তোরই জন্য বুকে জমে দীর্ঘশ্বাস।
 কান্নারা সব থেমে যাবে, তবুও আমি তোকেই ছুঁই,
পাওয়া -না পাওয়ার এই গল্পে, থাকবি—শুধু তুই।

অন্নহারা


রেলের জমি রেলেরই হোক— ন্যায়ের এ উচ্চারণ,

তবু কেন পথে বসে কাঁদে অসহায় জনগণ?

স্টেশনের ওই কোলাহলে, ধোঁয়া-মাখা ভোরে,

কত মানুষের দিন গড়াত ক্ষুদ্র দোকান ঘিরে।

চায়ের কাপে, মুড়ির ঠোঙায়, সংসারেরই গান,

সন্ধ্যাবেলায় ফিরত ঘরে একমুঠো সম্মান।

আজকে সেখানে ধুলোর নাচন, ইটের স্তূপের সারি,

ভাঙা টিনের ফাঁক দিয়ে চায় বিষণ্ন চোখ দু'খানি।

আইন তারই কর্তব্যপথে অটল অবিচল,

কিন্তু ক্ষুধার আর্তনাদও কি মিথ্যে কোলাহল?

রাষ্ট্র যদি হয় বিধির রক্ষক, জনতারও ত্রাতা,

শুধু উচ্ছেদ নয়, তার আগে চাই মানবতার কথা।

শৃঙ্খলা ফিরুক, শান্তি আসুক, থাকুক বিধির মান,

তবু যেন না পথে নামে অসহায় পরিবারখান।

ধুলো-ওড়া সেই বিকেলবেলা প্রশ্ন রেখে যায়,

উন্নয়নের রথের চাকার নিচে কারা হারিয়ে যায়?

মানুষ যেন মানুষের পাশে দাঁড়ায় সবসময়,

ন্যায়ের সাথে মানবতারও হোক সমান জয়।

মোহভঙ্গ

সক্কাল বেলা উঠছি আমি, হাতে মোবাইলখান,
বউটা আইসা কইল তখন, কখন করবা স্নান?
কইলাম আমি, একটু থামো, দেখি খবরখান,
বউটা কইল, খবর পরে, আগে সাইরো স্নান!
চা বানাইয়া সামনে রাখে, ভইরা দিল কাপ,
ফোনের মাঝে ডুইবা থাকি, নাইকো কোনো চাপ।
দুপুর বেলা ভাত বাড়িয়া ডাকল বারংবার,
স্ক্রিনের পানে চাইয়া আছি, নাইকো হুঁশ আর।
দুপুর গইয়া বিকেল আইল, গেল কত বেলা,
মোবাইল লইয়া ডুইবা আছি, এই কি জীবনের খেলা?
রাইত হইলে বালিশ পাশে মোবাইলেরই ঠাঁই,
বউটা কইল, এই ঘরেতে আমার দরকার নাই?
রাগে কইলাম, ফোনটা কিন্তু বড়ই আপনজন,
বউটা কইল, তাইলে তারেই দিও মনের সিংহাসন!
হঠাৎ একদিন সেই ফোনটা হইল যে বেকার,
চার্জ দিলাম, চাপ দিলাম—চালু হইল না আর।
মুচকি হাইসা বউটা কইল, কই তোমার সেই প্রাণ?
মাথা নিচু কইরা কইলাম, তুমিই তো আমার জান।
এখন আমি ফোন ধরি, আর ধরি বউয়ের হাত,
শান্তিতে যায় সংসারখানা, সুখে কাটে দিন-রাত।

দিগন্ত


কবিতা ক্লাব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত 
দিগন্ত 👈 ক্লিক করুন 

সংগ্ৰাম

যাদের ঘামে জ্বলে ওঠে, আলোকিত এই পথ,
তাদের চোখে জমে থাকে, বঞ্চনারই রথ।
কারখানার লৌহ দ্বারে, কঠোর শাসন বাজে,
ন্যায্য কথা উচ্চারিলে ,ভয়ই সামনে সাজে।
যন্ত্রযুগের এই সময়ে, মানুষ যেন ক্ষীণ,
লাভের কাছে প্রতিদিনই, হারায় শ্রমের ঋণ।
কোথাও আবার দুর্ঘটনায়, ঝরে তাজা প্রাণ,
সংবাদ হয়ে মিলিয়ে যায়, কত অজানা নাম।
তবু তারা থামে না কভু, থামে না কর্মগান,
তাদের ঘামেই বেঁচে থাকে, সভ্যতার সম্মান।
ধনীর ঘরে আলো জ্বলে, শ্রমিকেরই শ্বাসে,
শ্রমিক তবু অন্ধকারে, আজও বাঁচে দীর্ঘ হতাশে।
শ্রমের ঘামে লেখা হোক, মানবতার জয়,
শ্রমিকেরই হাসির ভেতর, ভবিষ্যতের পরিচয়।
মে দিবসের এই প্রহরে, উঠুক সবার বাণী,
শ্রমিকেরই সম্মানেতে জাগুক, মানব-জয়ধ্বনি।

আমি বাংলা

আমি বাংলা,আমি ভাষা
আমি গর্ব, আত্মবিশ্বাস
রক্তে লেখা আমার পরিচয় 
আমি মাটির বিশুদ্ধ শ্বাস।

তোমরা  জানো কে  আমি ?
আমিই  জনগণমনের  সুর 
আমিই স্কুলের প্রথম পাঠ 
আমার অবস্থান হৃদয়পুর।

আমার ভাষায় গান বেজে যায় 
 আহা ! জাতীয় গর্ব মিলেমিশে
আমার নামেই বন্দনা ' মা '- কে 
সেই ভাষা জাগে পাখির শিসে...

বলো , আজও  কেনো  তবে 
বাংলা নামে যা-খুশি তা রটে
অতীত ইতিহাস অস্বীকৃত হলে
তাতে বাংলার অপমান ঘটে। 

বাংলা-বাঙালির অনাহুত আঘাত 
এ দেশ ও জাতির  বড় বিস্ময়
 কথায়-কথায় আক্রমণ হানা
বোঝা যায় ইঙ্গিত ভালো নয়।

আমি বাংলা মাথা উঁচু 
কেন?অপমান হবে জমা !
অনুতাপ বুঝে শুধরে যাও 
বিবেক ক'রে দেবে ক্ষমা। 

যদি যত্রতত্র এমনই আবারও 
হয়  মিথ্যা অভিযোগ জমা 
দয়াপরবশ ক্ষমা করে বাঙালি
বিশ্ব স্বীকৃত বাঙালির দয়া-ক্ষমা।

মহানায়ক


মহানায়ক
কলমে দেবরাজ সাহা


বড়ো পর্দায় নক্ষত্র যে, নাম তার উত্তম কুমার,
চোখের চাউনিতে ভালোবাসা, হাসিতে রোদ্দুর-ধার।
ছবির ফ্রেমে স্বপ্ন গাঁথা, সংলাপে কাব্য ঝরে,
বাংলা ছবির গানে গানে, হৃদয় আজও ভরে।

সুট-কোটে ছিল রাজকীয়, ধুতি-পাঞ্জাবিতেও মান,
ভাষায় ছিল শুদ্ধ উচ্চারণ, অভিনয়ে ছায়া প্রাণ।
সুচিত্রার পাশে নায়ক যেন, ছায়াসঙ্গী জীবনের,
"সবার উপরে" যিনি থাকেন, আজও তিনি হৃদয়ঘরের।

সুচিত্রার পাশে ধরা পড়ে প্রেম, যেন মেঘের পাশে চাঁদের হাসি,
উত্তম ছিলেন না শুধু প্রেমিক, ছিলেন বাংলা ছবির স্বপ্নবাঁশি।
প্রতিটি দৃশ্য, প্রতিটি শব্দ, হয়ে উঠত অনুভবের ধ্বনি,
তাঁর মুখে “ভালোবাসি” মানে, অশ্রুর মতো চিরজীবন্ত বাণী।

স্বপ্নের রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন, সিনেমার মোহময় দ্বীপে,
প্রতিটি ফ্রেমে লিখে গেছেন, জীবনের আর্তি নিঃশব্দ নীড়ে।
নীরব চোখে নক্ষত্রহাসি, কথায় যেন কবিতা বাজে,
উত্তম নাম, স্বপ্নের মঞ্চে, যুগের মণি, আলোয় সাজে।

আজ তিনি নেই—তবু আছেন, আজও বুকে বাজে সেই গান,
"এই পথ যদি না শেষ হয়", চলেই যায় তাঁরই টানে প্রাণ।
নায়ক নয়, মহানায়ক—বাংলার হৃদয়ে রাজাধিরাজ,
উত্তম কুমার, চিরস্মরণীয়, এক বিস্ময়, এক শুভ সাজ।









সম্পর্ক

 

সম্পর্ক
দেবরাজ সাহা

তুমি বাতাস,
আমি পাতা।
তুমি না থাকলে,
আমি নড়ব না।

তবু কখনো,
তুমি দেখতে পাও না,
আমি কোথায় আছি।

নীরবে ঝরে পড়ি...
তোমারই খোঁজে।