Featured post

DEBRAJ SAHA TITLE SONG

A special song has been dedicated to Debraj Saha on the occasion of his 24th birth anniversary by MusicFul Hub. The entire vide...

DEBRAJ SAHA TITLE SONG


A special song has been dedicated to Debraj Saha on the occasion of his 24th birth anniversary by MusicFul Hub.
The entire video and voice featured in this project have been created using Artificial Intelligence (AI) technology, blending creativity with modern innovation to present a unique musical tribute.


Lyrics :- Debjyoti 
Music Arrangement :- Akash 
Music Arrangements :- MUSICFUL HUB 
Voice :- AI 
Video Edit :- Itz Subha 
Thumbnail :- Subha 

────────────────────

© Copyright & Credits

This video, music composition, voice generation, and visual presentation are the intellectual property of MusicFul Hub.
All AI-generated audio, visuals, and creative elements are used for artistic and celebratory purposes only.

Unauthorized reproduction, redistribution, or commercial use of this content without prior permission from the creator is strictly prohibited.

All rights reserved © MusicFul Hub & Debraj Saha



 #debrajsaha #Amader_Debraj_Saha #WriterDebrajSaha #Debraj_Saha #DebrajSahaTitleSong #titlesong #bengali #Debraj #WriterDebraj #Debrajsahawriter #holy #holi #trending #bengali #ai #musicful #aisongs

রাত্রি ৩:১৫ : বসুভবনের অভিশাপ

 

রাত ৩টা ১৫। সমস্ত পৃথিবী ঘুমিয়ে থাকলেও কিছু ঘর জেগে থাকে।
বসুভবন ছিল ঠিক তেমন এক ঘর। বীরভূমের প্রত্যন্ত এক গ্ৰামের কাছে গভীর সবুজে ঢাকা, ঝোপজঙ্গলে ঘেরা এক ভূতুড়ে প্রাসাদ— বসুভবন। বছর ষাটেক আগেও লোকের আনাগোনা ছিল এখানে। জমিদার সূর্যকান্ত বসু ছিলেন তুখোড় শিকারি, সাহিত্যের ভক্ত, কিন্তু মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। লোকমুখে শোনা যেত সূর্যকান্ত বসু অন্ধ ছিলেন। তবে তিনি সবসময় তাঁর হাতের কাছে একটি ছুড়ি এবং একটি ওয়াকিং স্টিক রাখতেন।

তার স্ত্রী মীনাক্ষী ছিলেন সুরের দেবী। কলকাতার নাট্যমঞ্চ থেকে সরাসরি এই গহীন গৃহে বন্দী হয়েছিলেন। কারণ একটাই—বিবাহ। আর তারপর যা ঘটেছিল, তা কারও জানা ছিল না পুরোপুরি, শুধু শোনা যেত এক নারীর গলা ফাটানো আর্তনাদ, এক শিশুর কান্না, আর ঘড়ির কাঁটা থেমে যাওয়া, যার সময় - রাত্রি ৩টা ১৫
বসুভবন ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত হয়। ঝোপে ঢেকে যায় জানালা, দরজা। কিন্তু সেই ঘড়ির আওয়াজ আজও ভেসে আসে—যেদিন কেউ আসে… আর ফিরে যায় না।

২০২৫ সাল। দম্পতি অরিত্র ও অঙ্কিতা, ফটোগ্রাফি ও হন্টেড লোকেশনের উপর ডকুমেন্টারি বানানোর প্ল্যান করছিল। ইন্টারনেটে ‘India’s Most Haunted Places’ বলে একটা তালিকায় তারা দেখে “BasuVaban, Birbhum ”। অরিত্র খুব যুক্তিবাদী, নাস্তিক স্বভাবের মানুষ। ভূত-প্রেত মানে না।তবে ফটোগ্ৰাফির প্রতি তার আলাদা এক নেশা আছে বটে। বিশেষ করে ভুতুড়ে জায়গায় যেতে এবং সেখানে গিয়ে ফটোশুট করতে সে চরম ভালবাসত। যেটা অঙ্কিতা একদমই পছন্দ করতো না। কিন্তু অঙ্কিতার অনুভূতি তীক্ষ্ণ, চুপচাপ, দৃষ্টিতে কিছু চাপা ভয় লুকিয়ে থাকে। অরিত্র জোর করে রাজি করায়‌ অঙ্কিতাকে "ভয়কে ক্যামেরাবন্দি করতে হবে। ভয় থেকে পালিয়ে নয়, তাকে শুট করতে হয়।"
তারা এসে ওঠে বসুভবনের মূল ভবনে। আশপাশ ফাঁকা, সঙ্গী শুধু পুরনো জীর্ণ গাছের হাওয়া ও সেই কাঁপা কাঁপা ঘড়ির শব্দ—টিক… টিক… টিক…

রাত ৩টা। অঙ্কিতা ঘুমাতে পারছে না। হঠাৎ কানে আসে দূর থেকে এক নারীকণ্ঠ— "আমার গলা ফিরিয়ে দাও… আমি কাউকে ছাড়ব না, কাউকে না"। এই বলে একটি জোরাল হাসি, যার আওয়াজ হয়তো এই বাড়ির বাইরে পর্যন্ত পৌছায় না। অঙ্কিতা হঠাৎ উঠে বসে, কিন্তু অরিত্র তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। অঙ্কিতা ঘড়ির দিকে তাকায়—৩:১৫। ঘড়ির কাঁটা এক মুহূর্তে থেমে যায়।
টিক… টিক……চুপ।
আর তারপর...
একটা ভয়ংকর ছুরির টানার আওয়াজ, যেন মনে হচ্ছে কাউকে কুপিয়ে খুন করা হচ্ছে। তার সঙ্গে সঙ্গে বাতাস হিম হয়ে আসে। অঙ্কিতা বুঝতে পারে, কেউ যেন ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে তাকে দেখতে পাচ্ছে… কোনো নারীর সাদা শাড়ি, রক্তমাখা মুখ… কিন্তু চেহারাটা যেন মানুষের নয়, চোয়াল খুলে হাঁ করে হাসছে।
সে চিৎকার করতে চায়, কিন্তু তার গলা শুকিয়ে যায়।

পরদিন স্থানীয় পুরোহিত সোহম ভট্টাচার্য্য সঙ্গে দেখা করে অরিত্র। তিনিই জানান এই বসুভবন বাড়ির আসল রহস্য-
“সূর্যকান্ত তাঁর স্ত্রীর গানে সন্দেহ করত। বিশ্বাস করত, গান গেয়ে সে অন্য পুরুষদের ডাকে। শেষে এক রাতে, পেন্ডুলামের ঘড়ি ঠিক রাত্রি ৩টা ১৫ তে সে তার স্ত্রীর গলা কাটে সেই কণ্ঠস্বর থামানোর জন্য। কিন্তু শেষ নিঃশ্বাসে মীনাক্ষী অভিশাপ দেয়—
‘যে এই ঘরে গলায় আওয়াজ তুলবে, তার কণ্ঠ আমায় ফিরিয়ে দিতে হবে।'
তখন থেকেই, প্রতি রাতে কেউ না কেউ সেই ঘর থেকে নিখোঁজ হয়।”

সেদিন রাত্রেই অরিত্র ঠিক করে আজ কিছুই ভয় পাবে না। সে ক্যামেরা বসিয়ে দেয় আয়নার মুখোমুখি। আর অঙ্কিতাকে দিয়ে রেকর্ডিং করায় -- গানের মাধ্যমে। এভাবে চলতে চলতে ঘড়ির কাঁটা প্রথমে পৌছায় ২:৫৭… ৩:০৩… এবং তারপরই ৩:১৫। ঘড়ি থেমে যায়। অঙ্কিতার গানও হঠাৎ থেমে যায়। তার চোখ ছানাবড়া, সে আয়নার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠে। আয়নার মধ্যে দেখা যায়—একটি গলা কাটা মহিলা, যার চোয়াল অস্বাভাবিকভাবে নিচে ঝুলে পড়েছে, চোখদুটো রক্তে ডোবা। সে অঙ্কিতার দিকে এগিয়ে আসে, আয়নার ভেতর থেকে বাইরে। ঘরজুড়ে বাতাসটা জমে বরফ হয়ে গেল যেন। ক্যামেরা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল। আর তারপর...?

বেশ কয়েক মাস পর একটি ফুটেজ ইউটিউবে আপলোড হয়, নাম: “REAL POSSESSION CAUGHT ON CAMERA AT BASUVABAN
ভিডিওটা এখনো কেউ হ্যাক করে ডিলিট করেনি। তবে ভিউজ যে খুব একটা বেশি তাও নয়। এমনকি ভিডিওটির কেমেন্ট বক্সও ফাঁকা।
ভিডিওর শেষ ফ্রেমে দেখা যায়—অরিত্র অচেতনভাবে পড়ে আছে ঘরের মেঝেতে, তার পেছনে দাঁড়িয়ে রয়েছে অঙ্কিতা। কিন্তু তার মুখ, তার চোখ… আর আগের মতো নেই।
ক্যামেরা বন্ধ হওয়ার আগের মুহূর্তে অঙ্কিতা ইংরেজিতে কিছু একটা যেন বলে। তবে স্পষ্টভাবে শুনলে বোঝা যাচ্ছে, সে বলেছে - 
"To be Continued..."